কালীপুজো ২০২৬: মা রাজরাজেশ্বরীর সারারাতব্যাপী দিব্য আরাধনা
জয় মা রাজরাজেশ্বরী।
বছরে একটি রাত আসে, যখন অমাবস্যার গাঢ় অন্ধকার নিজেই হয়ে ওঠে আলোর আধার। সেই দীপান্বিতা অমাবস্যার রাতে—রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬—লালগোলা কালী মন্দিরে মা রাজরাজেশ্বরীর বার্ষিক মহাপুজো। সন্ধ্যার প্রদীপ থেকে ভোরের আলো পর্যন্ত চলবে সারারাতব্যাপী দিব্য আরাধনা। সকল ভক্ত ও অতিথিকে মায়ের চরণে আন্তরিক আমন্ত্রণ।
তিথি ও লগ্ন
- পুজোর দিন: রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ (দীপান্বিতা অমাবস্যা)
- অমাবস্যা তিথি শুরু: ৮ নভেম্বর, বেলা ১১টা ২৭ মিনিট
- অমাবস্যা তিথি শেষ: ৯ নভেম্বর, দুপুর ১২টা ৩১ মিনিট
- নিশীথ কাল (মূল পুজোর লগ্ন): রাত ১১টা ৩৯ মিনিট থেকে ১২টা ৩১ মিনিট
সময়গুলি পঞ্জিকা-গণনা অনুযায়ী, কলকাতার হিসেবে দেওয়া; লালগোলায় কয়েক মিনিটের তারতম্য হতে পারে। মন্দিরের নিজস্ব পুজোসূচি, অঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণের সময় পুরোহিতের নির্দেশমতো এই পাতায় ও মন্দির প্রাঙ্গণে জানানো হবে।
এক রাত, অনন্ত আরাধনা
কালীসাধনার মর্মকথা—অন্ধকারের মধ্যেই আলোর সন্ধান। এই রাতে মা শুধু পূজিতা হন না, জেগে থাকেন ভক্তের সঙ্গে। মন্ত্রোচ্চারণ, ঢাকের বোল, প্রদীপের সারি আর শঙ্খধ্বনিতে রাতভর জেগে থাকবে মায়ের প্রাঙ্গণ। পুরোনো রীতি মেনে অন্নভোগের সঙ্গে নিবেদিত হবে ইলিশের ভোগ—নদীমাতৃক বাংলার যে ছাপ এই মন্দির বহন করে চলেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।
যে মাটিতে লোকবিশ্বাসে প্রথম উচ্চারিত হয়েছিল ‘বন্দে মাতরম্’, সেই মাটিতে এ বছরের কালীপুজো আরও বিশেষ—গোটা দেশ যখন সেই মন্ত্রের ১৫০ বছর উদ্যাপন করছে।
দর্শনার্থীদের প্রতি অনুরোধ
- ভিড় এড়াতে সম্ভব হলে সন্ধ্যার আগেই পৌঁছন।
- মন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের নির্দেশ মেনে সারিবদ্ধভাবে দর্শন করুন।
- গর্ভগৃহে ছবি তোলার আগে পুরোহিতের অনুমতি নিন।
- রাজবাড়ি প্রাঙ্গণের সংশোধনাগার-এলাকায় কর্তৃপক্ষের নিয়ম মেনে চলুন।
- মায়ের প্রাঙ্গণ পরিষ্কার রাখুন; প্রদীপ জ্বালানোর সময় সাবধান থাকুন।
অন্নভোগ বা বিশেষ সংকল্পের জন্য আগে থেকে যোগাযোগ করুন—সেবা ও দান। মায়ের আশীর্বাদে সবার জীবন আলোকিত হোক।
জয় মা কালী।
